Saturday, 19 December 2015

public universery teacher pay scale 2016

আবু কাওসার নতুন পে স্কেলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য সব সুযোগ-সুবিধা আগের মতো বহাল রাখা হয়েছে। পদোন্নতির মাধ্যমে উচ্চতর ধাপে যেতে পারবেন তারা। জাতীয় অধ্যাপকদের সিনিয়র সচিব মর্যাদার 'সুপার গ্রেড' পদে উন্নীত করা হয়েছে। আগের বেতন কাঠামোতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা তৃতীয় গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পেয়ে উচ্চতর ধাপ গ্রেড-২ এবং গ্রেড-১-এ যেতে পারতেন। নতুন বেতন কাঠামোতে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বিলুপ্ত করা হলেও বিকল্প সুবিধা হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে তৃতীয় গ্রেড থেকে দ্বিতীয় এবং প্রথম গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন স্কেলে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের পরবর্তী ধাপে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সম্প্রতি যে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে এসব বিষয়। জানুয়ারি মাস থেকে নতুন বেতন কাঠামোতে 'বর্ধিত বেতন' পাবেন তারা।  গত মঙ্গলবার নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মন্ত্রিসভায় পাস হওয়ার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অষ্টম বেতন কাঠামোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। অবশ্য পরে তারা নমনীয় হন। নতুন বেতন কাঠামোতে তাদের সুযোগ-সুবিধা কমানো হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ এ প্রসঙ্গে সমকালকে বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোনো সুযোগ-সুবিধা বাতিল করা হয়নি; বরং আরও বাড়ানো হয়েছে। এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই।  তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা বলেছেন, তাদের বেতন-ভাতার বিষয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। বরং আরও হরণ করা হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। এতে এতে খুশি নন তারা। শিক্ষকরা আরও বলেন, গত ৮ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকে 'সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের' মধ্য থেকে কিছু অংশকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় 'সুপার গ্রেডে' উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। একই অভিমত ব্যক্ত করেন বিসিএস শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসিচব ড.এ এস এম মাকসুদ কামাল সমকালকে বলেন, নতুন পে স্কেলে শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা কমানো হয়েছে। এতে আমাদের অনেক দাবি প্রতিফলিত হয়নি। জাতীয় অধ্যাপকরা পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পান না। তাদের থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, জাতীয় অধ্যাপকদের সুপার গ্রেডে নেওয়া ঠিক হবে না। অথচ জাতীয় অধ্যাপকদের সুপার গ্রেড দেওয়া হলো। এটা আইনের পরিপন্থী। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার এ প্রসঙ্গে সমকালকে বলেন, নতুন পে স্কেলে জনপ্রশাসনের সবাই পঞ্চম গ্রেড থেকে তৃতীয় গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। শিক্ষকরা কেন চতুর্থ গ্রেডে থাকবেন। তিনি বলেন, নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা সংশোধন করলে বর্ধিত বেতন পেতে জটিলতা বাড়বে। এ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। গত ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভায় নুতন পে স্কেল অনুমোদনের পর পাবিলক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ ছিল, পে স্কেলে শিক্ষকদের চার ধাপ নিচে নামানো হয়েছে, যা তাদের জন্য অমর্যাদাকর। বেতন বৈষম্য দূর করে শিক্ষদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে একপর্যায়ে ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলনে নামেন। পরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি নিরসনে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের আলোকেই নতুন পে স্কেলে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে :আগের বেতন কাঠামোতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা তৃতীয় গ্রেডভুক্ত ছিলেন। টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পেয়ে গ্রেড-২ এবং গ্রেড-১-এ পদোন্নতির সুযোগ পেতেন। নতুন বেতন কাঠামোতে অধ্যাপকদের আগের মতোই তৃতীয় গ্রেডে রাখা হয়েছে। এই গ্রেড থেকে পদোন্নতি পেয়ে যথাক্রমে গ্রেড-২ এবং গ্রেড-৩-এ যেতে পারবেন তারা। তবে গ্রেড-১-এ বেতন আহরণযোগ্য অধ্যাপকের সংখ্যা হবে গ্রেড-২প্রাপ্ত অধ্যাপকদের সংখ্যার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে ড. মাকসুদ কামাল বলেন, শিক্ষকদের গ্রেড-২-এর পদ কখনোই ছিলো না। এটা করা হলে আমাদের সুবিধা আরও কমে যাবে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা হবে উচ্চশিক্ষার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। বিসিএস শিক্ষক : আগে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত অধ্যাপকরা চতুর্থ গ্রেডে বেতন পেতেন। মোট অনুমোদিত অধ্যাপক পদের ৫০ শতাংশ সিলেকশন গ্রেড পেয়ে চতুর্থ গ্রেড থেকে তৃতীয় গ্রেডে যেতে পারতেন। নতুন বেতন কাঠামোতে তাদের জন্য একই সুযোগ-সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। তবে অধ্যাপকদের পদোন্নতি পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালা সংশোধন করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই নীতিমালার আলোকে পদোন্নতি দেওয়া হবে। - See more at: http://bangla.samakal.net/2015/12/19/180756#sthash.a7suWcCe.dpuf

No comments:

Post a Comment