Tuesday, 15 December 2015

pay scale bd 2016

বিশেষ প্রতিনিধি অবশেষে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অর্থমন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের আদেশ জারি করে তা কার্যকর করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ গেজেট প্রকাশের বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন।
অর্থমন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটেও রাতে গেজটটি প্রকাশ করা হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে যে সংশয় ও সন্দেহের অবকাশ ছিলো গেজট প্রকাশের মধ্য দিয়ে তা দূর হলো। জানুয়ারিতেই নতুন পে-স্কেলে বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। পে স্কেল গত জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় পাওনা বকেয়া পাবেন তারা। দুই কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে বকেয়া। এখন শুধু বেতন বাড়বে। ভাতা বাড়বে আগামী বছরের জুলাই থেকে। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সদস্য, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকে কর্মরত চাকরিজীবি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নতুন পে-স্কেল অনুুযায়ী জানুয়ারিতে 'বর্ধিত বেতন' পাবেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকসহ বর্তমানে সরকারি কোষাগার থেকে মাসিক বেতন নেন- সারা দেশে এরকম জনবল ২১ লাখ। বিসিএস প্রকৃচি সমন্বয় পরিষদ বলেছে, নতুন পে স্কেলে বেতন বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ১৯ ডিসেম্বর সমাবেশ ঘোষণা করেছে তারা। সচিবালয় সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি নিজামুল হক ভুইয়া বলেন, এ বৈষম্য থাকলে কর্মচারিদের মধ্যে হতাশা বাড়বে। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব ড.এ এস এম মাকসুদ কামাল সমকালকে বলেন, আমরা এখনও গেজট পাই নি। এতে কি আছে তা পর্যালোচনা করার পর মন্তব্য করা হবে। নতুন পে স্কেলে বহু আলোচিত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রথা বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে বিকল্প সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নতুন পে স্কেল অনুযায়ী, প্রত্যেকে চাকরি মেয়াদে ২ টি পদোন্নতি পাবেন। সন্তোষজনক চাকরি করার বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে ১০ বছর পর পরবর্তী গ্রেডে উন্নীত হবেন। সেই উন্নীত গ্রেডে ৬ বছর চাকরিরর পর 'স্বয়ক্রিয়ভাবে' পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের সুবিধা বহাল থাকবে। জানা গেছে, প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার আগ পর্যন্ত যে সব কর্মকর্তা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন, শুধুমাত্র তারাই আর্থিক সুবিধা পাবেন। প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর থেকে যারা যোগ্য হবেন তাদের এ সুবিধা দেওয়া হবে না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পাবেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে যারা জাতীয় অধ্যাপক হবেন, তাদের জন্য সিনিয়র সচিব পদমর্যদা সম্পন্ন নতুন একটি গ্রেড সৃষ্টি করা হয়েছে। পে স্কেলে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর প্রথা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এদিকে, চাকরিতে প্রথম অবস্থায় যোগদানের ক্ষেত্রে বিসিএস প্রথম শ্রেণীর ক্যাডার কর্মকর্তাদের আগের মতো অষ্টম গ্রেডে বহাল রাখা হলেও নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের এক ধাপ নিচে নামিয়ে দিয়ে নবম গ্রেডে রাখা হয়েছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রীকে টেলিফোনে জানান, বিজয় দিবসের আগে আরেকটি শুভ সংবাদ দিতে চান সরকারি চাকরিজীবীদের। যে ভাবেই হউক গেজট প্রকাশ করতেই হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করতে অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। নির্দেশের পর মঙ্গলবার রাতেই গেজট প্রকাশ করা হয়। নতুন স্কেলে 'মূল বেতন' সবোর্চ্চ ৭৮ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। সবোর্চ্চ গ্রেডে বর্তমানের চেয়ে ৯৫ শতাংশ ও সর্বনিম্ন গ্রেডে শতভাগের বেশি 'মূল বেতন' বাড়ানো হয়েছে। সচিব সহ এক নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তাদের মুল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এর বাইরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানরা মূল বেতন পাবেন যথাক্রমে ৮৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া সিনিয় সচিব ও লেফটেনেন্ট জেনারেলদের মহৃল বেতন ৮২ হাজার টাকা। নতুন স্কেলে ২০ টি গ্রেড রাখা হয়েছে। অষ্টম গ্রেডের বিসিএস প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারা প্রবেশের সময় মূল বেতন পাবেন ২৩ হাজার টাকা। অপরদিকে, নবম গ্রেডে নন-ক্যাডার কর্মকর্তার মূল বেতন হবে ২২ হাজার টাকা। আগে এরা একই গ্রেডে মূল বেতন পেতেন। ১০ ও ১৬ বছরে স্বয়ংক্রিয় পদোন্নতি: টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না থাকায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেডে পৌঁছানোর সুবিধা বাতিল হয়ে গেছে। এ অবস্থায় তাদের জন্য চাকরি শুরুর প্রথম ১০ বছরে কোনো পদোন্নতি না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরে আরো ৬ বছর অথ্যাৎ ১৬ বছর চাকরি শেষে একইভাবে উচ্চতর গ্রেডে যেতে পারবেন তারা। চলতি অর্থবছরের ইনক্রিমেন্ট বাদ: নতুন স্কেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীর চলতি অর্থবছরের ইনক্রিমেন্ট পাবেন না। এত দিন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেদিন চাকরিতে যোগদান করতেন, প্রতিবছর ওই দিন থেকে তারা ইনক্রিমেন্ট পেতেন। নতুন নিয়মে এ বছর কোনো ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে না। তবে আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই একটি করে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে। বাড়িভাড়া বাবদ মূল বেতনের ৭.৫ শতাংশ কেটে রাখা হবে না: সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের মধ্যে যারা সরকারি বাসায় থাকেন, তাদের বাড়িভাড়ার পুরোটা এবং মূল বেতনের ৭.৫ শতাংশ অর্থ বাড়িভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ কেটে নিতো সরকার। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, মূল বেতনের ৭.৫ শতাংশ কর্তন করা হবে না। ফলে সরকারি বাড়িতে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থ সাশ্রয় হবে। পিআরএল সুবিধা বাড়ল : আগের বেতন কাঠামোতে পিআরএল সুবিধা এক বছর ছিলো। অর্থাৎ অবসরে যাওয়ার আগের এক বছর ছুটিতে থেকেও চাকরি থাকার মতোই সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা এক বছর ভোগ করতে পারতেন চাকরিজীবীরা। নতুন বেতন কাঠামোতে এটি বাড়িয়ে দেড় বছর বা ১৮ মাস করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে অবসরে যাওয়ার দেড় বছর আগে থেকে ছুটিতে থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন তারা। বাড়ল পেনশন সুবিধা: নতুন বেতন কাঠামোতে অবসরে যাওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা তাদের সন্তানদের পাওয়া পেনশন সুবিধা বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ অবসরে যাওয়ার আগে তিনি যে গ্রেডে ছিলেন, ওই গ্রেডের মূল বেতনের ৯০ শতাংশ অর্থ প্রতি মাসে পেনশন হিসেবে পাবেন। আগে এটি ছিল মূল বেতনের ৮০ শতাংশ। - See more at: http://bangla.samakal.net/2015/12/15/180113#sthash.rh2qtA8Q.dpuf

No comments:

Post a Comment